রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সেবা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এমপি শামীমের জরুরি সভা করোনা পরিস্থিতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জানতে সরকারী এবং বেসরকারী হাসপাতালের দুয়ারে (সুজন) লোহাগড়ায় ৩ হাজার ৭শ’৬৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান নতুন মাদক Eskuf ও বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪ লকডাউনে গরিবদের টেক-কেয়ার করবো, নতুন কিছু করবো: অর্থমন্ত্রী মাদকমুক্ত সমাজ গাড়ার দাবীতে মানববন্ধন হাটহাজারীতে ছুরিআঘাতে যুবকের মৃত্যু পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে দিতে প্রশাসনের অভিযান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ RAB ক্যাম্পের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ ০২ জন কুখ্যাত গাঁজা ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

অনলাইন জুয়ার কারবার বন্ধে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি!

সম্পাদকীয় - আলোর দিগন্ত
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮০ বার দেখা হয়েছে

সাইবার ক্রাইমের ধরনের কোনো শেষ নেই। জুয়া একটি ধরন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, দেশে অনলাইন জুয়ার আসর রমরমা রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন অ্যাপ খুলে চালানো হচ্ছে জুয়া। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকেরা প্রধানত এই জুয়ায় আসক্ত। তাদের সংখ্যা বাড়ছে।

দেশি- বিদেশি বিভিন্ন লিগ খেলা ও মোবাইল গেমকে ঘিরে বাজি ধরার নামে চলে এই জুয়া। আয়োজকের ভূমিকায় থাকে ওয়েবসাইট। এরকম বহু ওয়েবসাইট রয়েছে। ওয়েবসাইটে একাউন্ট খুলে তারপর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে জুয়ায় অংশ নিতে হয়। অনলাইন জুয়াড়িরা বিকাশ, রকেট ও নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দিয়ে থাকে।

অনলাইনে জুয়ার অপরাধে ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট একটি চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে, যার সদস্যরা তাদের সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলা ও টাকা জমা দেয়ার জন্য ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপন পর্যন্ত দিত। অ্যান্টি টেরোরিজম ইউটের তরফে বলা হয়েছে, চক্রের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য রয়েছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর বরাতে খবরে অনলাইন জুয়া তীরখেলা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি ভারতের শিলিং থেকে প্রথমে সিলেটে এবং পরে নেত্রকোনা হয়ে ঢাকায় আসে। ‘তীর টুডে ডটকম’-এর মাধ্যমে এ জুয়া সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এর মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ নিঃস্বে পরিণত হয়েছে। পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের মতে, ৭০ থেকে ৮০ গুণ লাভের লোভ দেখিয়ে ১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত জুয়ার সংখ্যা বিক্রী করা হয়। একজন একাধিক সংখ্যা কিনতে পারে। দিনে দু’বার ড্র হয়। এতে একজন বিজয়ী হলেও অন্যরা নি:স্ব হয়ে পথে বসে যায়। দিনমজুর, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ী ইত্যাদিকে টার্গেট করে সাজানো হয় এই জুয়া। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা যায় সীমান্তে। সেখানে থেকে হুন্ডির মাধ্যমে যায় ভারতে। শুধু ভারতভিক্তিক নয়, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশভিত্তিক জুয়ারও চক্র আছে, যারা এখানে সক্রিয়। এছাড়াও রয়েছে অনলাইন লুডু, কেরামসহ শতাধিক গেম। এসবে কিশোর-কিশোরীরাই বেশি আসক্ত।

অনলাইন জুয়ার এই কারবারে একদিকে কিশোর-কিশোরী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও নিম্ন আয়ের মানুষ জড়িত হয়ে পড়ছে, নিজেদের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে ফেলছে অন্যদিকে জুয়ার অর্থ যোগাতে গিয়ে বিভিন্ন রকমের অপরাধেও সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জুয়ার সুবাদে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের অধিক সংখ্যায় জুয়াসক্ত হয়ে পড়া দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যারা আগামীতে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাল ধরবে তারা যদি মদ-মাদক, জুয়াসহ অনৈতিক কাজে নিজেদের অভ্যস্ত করে ফেলে তবে তাদের নিজেদের ভবিষ্যত তো ধ্বংস হবেই, একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যতও নষ্ট ও বিপন্ন হয়ে যাবে। করোনাকারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কার্যত ঘরবন্দী হয়ে আছে।

এ অবস্থা তাদের অনলাইনমুখী করেছে। কাজ না থাকায় তারা অনলাইনে জুয়া, খেলা ইত্যাদিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে ক্রমশ। এই নিষ্ফলা সময়ে, মহামারিকালে বেকার ও তরুণদের অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কর্ম নেই, চাকরিবাকরি নেই, উপরন্তু অভিভাবকদের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের অতীষ্ট করে তুলেছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, রাজনৈতিক বিভাজন, ক্ষমতাসীনদের অনৈতিক আচরণ প্রভৃতিও তাদের মর্মপীড়ার কারণ। এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথাও বলতে হবে যে, লোভ-লালসাও এজন্য বিশেষভাবে দায়ী। এরকম পরিস্থিতিতে যে কারো বিপথগামী হয়ে পড়া অসম্ভব নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নৈতিক মানের চরম অবনতি এবং মূল্যবোধের অবিশ্বাস্য ধস নেমেছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। যুবক-তরুণরাও তার বাইরে নয়। পবিত্র কোরআনে মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য পরীক্ষার তীরকে ঘৃণ্য বা নিকৃষ্ট বস্তু বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে: এসব শয়তানের কাজ। তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো। পবিত্র কোরআনের এই বাণী ও শিক্ষা যদি সমাজে অনসৃত হতো, সমাজ কখনোই এত অবনত হতে পারতো না। মদ-মাদক ও জুয়ার সয়লাব সৃষ্টি হতো না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Alor Diganto
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102